সেই ফাতেমাকে নিয়ে জানা গেল নতুন তথ্য
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার দীর্ঘদিনের পরিচারিকা ও বিশ্বস্ত সঙ্গী
ফাতেমা বেগম হয়ে উঠেছেন শূন্যতার এক নীরব সাক্ষী। দাফন থেকে শুরু করে শেষ বিদায়ের প্রতিটি মুহূর্তে খালেদা জিয়ার পাশে ছায়ার মতো উপস্থিত ছিলেন তিনি। এক মুহূর্তের জন্যও সরে যাননি নেত্রীর কাছ থেকে। খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পরও পরিবারের আস্থা ও ভরসার জায়গা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ফাতেমা বেগম। বর্তমানে তিনি তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের ছায়াসঙ্গী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে ফাতেমা বেগম ছিলেন খালেদা জিয়ার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। গুলশানের ‘ফিরোজা’ বাসভবন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক আন্দোলনের ব্যস্ত সময়, কারাবন্দি জীবনের নিঃসঙ্গতা কিংবা বিদেশ সফরের আড়ালের করিডোর—সবখানেই নীরবে তার উপস্থিতি ছিল। দায়িত্বের বাইরে গিয়ে তিনি ছিলেন এক মানবিক সহচর। শারীরিক দুর্বলতার সময় হাত ধরে রাখা, ওষুধ খাওয়ানো, প্রয়োজনীয় বিষয় মনে করিয়ে দেওয়া—সবই ছিল তার নিঃস্বার্থ সেবার অংশ।
ফাতেমা বেগমের ব্যক্তিগত জীবনও ছিল সংগ্রামময়। ভোলার কাচিয়া ইউনিয়নের এক কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া ফাতেমা স্বামী হারানোর পর দুই সন্তানকে নিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। জীবিকার তাগিদে ২০০৯ সালে ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার বাসভবনে কাজ শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে তার নিষ্ঠা, বিশ্বস্ততা ও মানবিক আচরণ তাকে নেত্রীর সবচেয়ে কাছের মানুষদের একজন করে তোলে।
২০১৩ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিরোধী আন্দোলন, ২০১৫ সালের দীর্ঘ অবস্থান কর্মসূচি এবং ২০১৮ সালের কারাবাস—সব সংকটময় সময়ে ফাতেমা ছিলেন খালেদা জিয়ার নীরব সহযাত্রী। করোনাকালে হাসপাতালে সেবা দেওয়া থেকে শুরু করে সর্বশেষ লন্ডনে চিকিৎসা সফর পর্যন্ত তিনি ছিলেন অবিচল সঙ্গী। এই সম্পর্ক ছিল না কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের, ছিল না কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্বের—ছিল এক গভীর মানবিক বন্ধন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে ফাতেমা বেগমের গুরুত্ব এতটাই স্পষ্ট ছিল যে একসময় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কটাক্ষেও তার নাম উঠে আসে। বৈশ্বিক সংকট ও রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মাঝেও ফাতেমা বেগম ছিলেন এক নিরব ছায়া—যার নেই কোনো পদ, নেই কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, তবু যার উপস্থিতি ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর নীরব সাক্ষী হয়ে থাকবে।

Comments
Post a Comment